Monday, March 5, 2007

একটা গল্প বলি -

একটা গল্পের কথা মনে পড়ে গেল। ছোটবেলায় পড়েছিলাম। কার লেখা মনে নেই। পরে রেডিওতে নাটকও শুনেছিলাম। গল্পটা এইরকম-

একটি মেয়ের বিয়ের ঠিক করা হচ্ছে। সম্বন্ধ করে। কলকাতায়। সুন্দরী, শিক্ষিতা, উচ্চ বংশের। কাজেই ভাল পাত্রেরও অভাব নেই।

পাত্রের তালিকায় একটি মাঝারি কারখানার মালিক। সুন্দর, শিক্ষিত, উচ্চবংশের। কাজেই মেয়ে দেখতে গেল ছেলে নিজেই--কালো চকচকে বড় গাড়ি চালিয়ে, দামী স্যট-টাই পরে। মেয়েকে দেখে খুব পচ্ছন্দ। সেইদিনই পাকাকথা সেড়ে ফেলতে চান। কিন্তু মেয়ের বাবা বললেন, 'পরে জানাব'।

তারপর একদিন দু-লাইনের পোস্টকার্ড পেল, ছেলেটি। নাঃ, এই বিয়ে হলো না।

নিউ মার্কেট তখনও এখনকার মত হয় নি। এক বৈশাখে, সন্ধেবেলায়, নিউ মার্কেটে কিছু একটা কিনতে ছেলেটি একটা দোকানে ঢুকে এটা ওটা দেখছে, হঠাৎ দেখে সেই মেয়েটিও ঐ দোকানে, কিছু একটা কিনতে এসেছে। ছেলেটি আগবাড়িয়ে গিয়ে কথা বলল। জিজ্ঞেস করল, তাকে বিয়ে না করার কারণ কী। মেয়েটি কিছু না বলে ব্যাগ থেকে একটি খাম ছেলেটির হাতে দিয়ে বলল, 'আসবেন, আমার বিয়ে'।

ছেলেটি দুঃখ পেল। পাবারই কথা। একবার ভাবল, যাবে বিয়েতে, দেখবে, কে সেই ছেলে, যার জন্য সেই মেয়েটি তাকে বিয়ে করল না। তারপর কী ভেবে ঠিক করল, না, যাবে না।

বৈশাখ মাস, বিয়ের মরশুম। সবাই একটা না একটা নেমন্তন্ন পায়ই। ছেলেটির কারখানার ম্যানেজারের বউভাতের নেমন্তন্নও আছে লিস্টে। আবার এক দূর সম্পর্কের আত্মিয়ার বিয়ে। দুটোতেই যেতে হবে। ম্যানেজারের বউভাতে একটু পরে গেলেও হবে, এই ভেবে আগে আত্মিয়ার বিয়েটা দুটো মিস্টি-জল খেয়ে সেড়ে ফেলল।

ম্যানেজার আর তার অফিসের অন্যান্য কলিগেরা মিলে চোখ ধাঁধাঁন গেটের কাছে তাদের মালিকের আসার জন্য অপেক্ষা করছিল। কালো গাড়ীটা আসতেই সবাই ব্যস্ত হয়ে উঠল। ম্যানেজার গর্বের সঙ্গে মালিককে নিজের বাবা-মা, কাকা, জ্যাঠা, যাকে সামনে পায়, তার সঙ্গেই আলাপ করায়। সবশেষে নিজের নববিবাহিতা স্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করায়।

পাঠককে এইটুকু নিশ্চয়ই বলে দিতে হবে না যে ম্যানেজারের স্ত্রীই আসলে সেই মেয়েটি।

এই গল্প এইখানে বলার উদ্দেশ্য হল, বাঙ্গালী চাকরী করা ছেলেকে বেশী সিকিওরড মনে করে, সেই চাকরীদাতা মালিকের তুলনায়ও।

তাই এখনও বাংলায়, ৫০০-৭০০ টাকা মাইনের কাজের লোক পাওয়া যায়। আমি এমন অনেক দেখেছি, যারা ২০০০ টাকা মাস-মাইনেতে চার জনের সংসার চালায়। সুখে থাকে?

তার মানে এই নয়, যে সুখে থাকতে গেলে টাকার দরকার হয়। সুখে থাকা এক জিনিস আর সংসার করা আরেক জিনিস। সংসার করতে গেলে টাকার দরকার হয়। আর ২০০০ টাকায় সংসার চলেনা।

যখনই প্রয়োজনের তুলনায় টাকা কম মনে হবে, তখনই দুর্নীতি আসবে। তাই বাংলায় খালি, অন্যায়, অবিচার, অনিয়ম, অসততা আর অরাজকতা।

বাঙ্গালী ব্যবসা বিমূখ। একথা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু ব্যবসা ছাড়া সংসারের প্রয়োজন মেটান সম্ভব নয়। একমাত্র ব্যবসাই সৎভাবে অপরিমিত টাকা রোজকার দিতে পারে।

বাঙ্গালী ব্যবসামুখি হও।

3 comments:

Miah said...

গল্পটা এর আগে শুনিনি.... কিন্তু দারুন একটা বাস্তবতা ফুটে উঠে এসেছে এটাতে - আমি নিজেও আংশিকভাবে যার স্বীকার।
--শামীম

sagar said...

আজ কিন্ত বাঙ্গালীরা ব্যাবসা করছে। আর করছে বলেই বুঝতে পারছে যে উন্নতি করতে গেলে নতুন কোন পদ্দতিতে ব্যাবসা করতে হবে। আমি একজন বাঙ্গালী, থাকি জাপানে, কিন্ত সবসময় নতুন নতুন প্রোজ়েক্ট বানিয়েছি। যদি কেউ জানতে চান তবে আমাকে লিখুন। বাঙ্গালীর উন্নতির জন্য আমি সবসময় রাজি।
BofB(Best Of Bengal)
prime, our pride
sgdebnath@gmail.com
all the best

Swakkhar Shatabda said...

আসলেই বাঙ্গালীরা ব্যবসা করতে চায় না, ভালো গল্প, এটা অন্য ফর্মে আগে শুনেছি মনে হয়...